ছয় দশকের লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ সাহিত্য-সংস্থার সম্মাননা পেলেন ভাষাটির অন্যতম প্রবীণ কবি ও নাট্যকার। সম্মাননা ঘোষণার পর সমাজজুড়ে শুরু হয়েছে অভিনন্দনের জোয়ার।
কেন্দ্রীয় সাহিত্য অকাডেমির সম্মাননায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার জ্যেষ্ঠ সাহিত্যিক
দেশের সর্বোচ্চ সাহিত্য-সংস্থার এবারের সম্মাননায় ভূষিত হলেন বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার জ্যেষ্ঠ কবি ও নাট্যকার। ছয় দশক ধরে নিরলস লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান তাঁর কাছে এসেছে। ঘোষণার দিন তাঁর বাড়ির উঠানে শুরু থেকেই ভিড় জমতে থাকে — প্রতিবেশী, ছাত্রছাত্রী, সাহিত্যের সাথী, এমনকি স্কুলের শিশুরাও ফুল হাতে দাঁড়িয়ে।
সম্মানিত সাহিত্যিকের প্রথম প্রকাশনা ছিল পঞ্চাশের দশকের একটি হাতে-লেখা পত্রিকায়। এরপর একে একে বেরিয়েছে বারোটি কাব্যগ্রন্থ, আটটি নাটক আর ভাষাতত্ত্ব নিয়ে দুটি গবেষণা-গ্রন্থ। তাঁর নাটকগুলো আজও গ্রামের নাটমন্দিরে মঞ্চস্থ হয়; কবিতা পড়ানো হয় স্কুলের পাঠ্যসূচিতে। প্রবীণ লেখক মনে করিয়ে দেন — সাহিত্য কোনো পুরস্কারের জন্য লেখা হয় না, পুরস্কার তো পথের পাশে পাওয়া ফল।
সম্মাননার খবর ছড়াতেই সমাজের সংগঠনগুলো একে একে অভিনন্দন জানিয়েছে। সাহিত্য সভার সভাপতি বলেন, এই সম্মান কোনো ব্যক্তির নয় — গোটা ভাষার। যে ভাষাকে একসময় ঘরের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখা হতো, সেই ভাষা আজ দেশের সর্বোচ্চ সাহিত্য-মঞ্চে আলোচিত। প্রবাসের পাঠকেরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ভাষাটির প্রথম ছাপা বই প্রকাশিত হয়েছিল গত শতকের গোড়ায়। তারপর প্রজন্মের পর প্রজন্ম লিখেছেন, ছেপেছেন নিজের টাকায়, বিলিয়েছেন হাতে হাতে। আজকের সম্মাননা তাঁদের প্রত্যেকের অবদান স্মরণ করিয়ে দেয়। সাহিত্য-মহলের প্রত্যাশা, এই স্বীকৃতি নতুন প্রজন্মকে নিজের ভাষায় লেখার সাহস জোগাবে।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে আগামী মাসে রাজধানীতে। যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে এলাকায় — কে দেবেন শাল, কে দেবেন পুঁথির বাঁধাই, তরুণরা বুঝেছেন দলিল-চিত্রের দায়িত্ব। লেখকের একটাই অনুরোধ — যারা যাবেন, নতুন কবিতার খাতা হাতে নিয়ে যেতে ভুলোবেন না।