একটি ছোট সমাজের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ঐক্য। দলাদলি যেখানে ঢুকেছে, সেখানে স্কুল বন্ধ হয়েছে, সমিতি ভেঙেছে, উৎসব সরু হয়েছে। এই সম্পাদকীয় সেই পুরনো সত্যের প্রতি মনোযোগ ফেরানোর আহ্বান।
সম্পাদকীয়: ঐক্যই শক্তি
গত মাসে দুটি সংবাদ পাশাপাশি ছাপা হল এই পত্রিকায়। একটিতে — কোনো এক জেলায় সাহিত্য সভার দুটি পৃথক বার্ষিক অধিবেশন, দুটি পৃথক মঞ্চ, দুটি পৃথক সভাপতি। অন্যটিতে — সীমান্তের ওপারে একটি গ্রামে প্রবাসীদের টাকায় সংস্কার হয়েছে শতবর্ষী নাটমন্দির, উদ্বোধনে মিলেছে দুই রাষ্ট্রের পুরোহিতের আশীর্বাদ। পাশাপাশি রাখলে দুটি সংবাদ আমাদের কী বলে, তা নিয়ে ভাবা ছাড়া উপায় নেই।
ইতিহাস সাক্ষী, ছোট ভাষার সমাজ বাঁচে তার মানুষের হাতেধরা থাকায়। যে প্রজন্ম নিজের সংগঠনগুলোকে দলে দলে ভাগ করে ফেলে, সে প্রজন্ম শেষ পর্যন্ত ভাগ করে ফেলে নিজের স্কুলঘর, নিজের গ্রন্থাগার, এমনকি নিজের উৎসবের মঞ্চও। পাড়ার দুই সংগঠন আলাদা হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ে না — খরচ বাড়ে। আয়োজক দুই দল, দর্শক অর্ধেক, আর নতুন প্রজন্ম দাঁড়িয়ে থাকে কোন মঞ্চে উঠবে ভেবে।
আমরা বলছি না যে মতপার্থক্য দোষের। সুস্থ সমাজে মতপার্থক্য থাকবেই, থাকা উচিত। কিন্তু মতপার্থক্য যখন প্রতিষ্ঠান-ভাঙার হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখনই সমাজ দুর্বল হয়। সভা-সমিতি কোনো ব্যক্তির উত্তরাধিকার নয় — সেগুলো প্রজন্মের আস্থার তহবিল। ব্যক্তি আসবে, ব্যক্তি যাবে; তহবিলটা রক্ষা করতে হবে।
তাই এই নিবেদন — যে-সংগঠনেই কাজ করুন, বছরে অন্তত একটি অনুষ্ঠান এমন রাখুন যেখানে সব পক্ষের মানুষ এক মঞ্চে উঠতে পারেন। ভাষার দিবস আসছে; সেটিই হোক সেই সুযোগ। একটি সমাজের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী তার ঐক্য — আর সেই প্রদর্শনী কোনো প্রেক্ষাগৃহে হয় না, হয় মাঠে, উঠানে, ধার্মিক আসরে। ঐক্যই শক্তি — এ কথা আমরা শিশুদের শেখাই; এবার নিজেরাও শিখি।