📅

অনলাইন সংস্করণ • ধর্মনগর, ত্রিপুরা

২৫ খবর • ৩২,৯৫৮ পঠন

সাপ্তাহিক সংবাদপত্র

প্রতিষ্ঠা ১৯৮৫ • ধর্মনগর, ত্রিপুরা

কাকাই

বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সংবাদ

← ত্রিপুরা

ত্রিপুরা ব্রেকিং

কৈলাশহরে কার্তিক পূজার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, এবার ছয় দিনের অনুষ্ঠান

ত্রিপুরার কৈলাশহরে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সমাজের সবচেয়ে বড় উৎসব কার্তিক পূজার প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, এবার অনুষ্ঠান চলবে টানা ছয় দিন, আসবেন বরাক উপত্যকা থেকেও হাজারও ভক্ত।

কার্তিক মন্দিরের চত্বরে প্রদীপ আর প্রস্তুতির দৃশ্য
ছবি: কার্তিক মন্দিরের চত্বরে প্রদীপ আর প্রস্তুতির দৃশ্য

ত্রিপুরার উত্তরাঞ্চলের কৈলাশহর শহরে কার্তিক মন্দিরের চত্বর এখন উৎসবের গন্ধে ভরে উঠেছে। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সমাজের প্রাণের উৎসব কার্তিক পূজা সামনে রেখে মন্দির কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুতি ঢুকেছে শেষ পর্যায়ে। কার্তিক মাসের এই বড় পার্বণে এবার অনুষ্ঠান চলবে টানা ছয় দিন — এমন ঘোষণা দিয়েছে মন্দির কমিটি।

মূর্তি গড়ার কাজ প্রায় শেষ। কুমোরপাড়ার শিল্পীরা বলছেন, এবারের কার্তিক মূর্তিতে থাকছে ময়ূরবাহনের বিশেষ আঙ্গিক। প্রতি বছরের মতো এবারও মূর্তি সাজানো হচ্ছে মালতী-গাঁদা আর কাগজের ফুলের মালা দিয়ে। মন্দিরের ভিতরের ও বাইরের চত্বর সাদা-রঙা কাপড়ে মোড়া হচ্ছে, ছাদের কার্নিশে ঝুলছে রঙিন বাতির মালা।

কমিটির সভাপতি জানান, এবারের কর্মসূচিতে রয়েছে প্রতিদিন সন্ধ্যায় নামসংকীর্তন, সকালে পূজা-আরতি আর রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তৃতীয় দিনে বসবে ধর্মীয় আলোচনাসভা, যেখানে উপত্যকা ও রাজ্যের বাইরে থেকেও আসবেন বক্তারা। শেষ দিনে থাকবে সমাজভোজ আর প্রদীপ নির্যাপণ — সন্ধ্যায় হাজারও প্রদীপ জ্বলবে মন্দির-ঘাট জুড়ে।

ভিড় সামলাতে স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা এবার রাখা হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক। স্বাস্থ্য-তাঁবু, খাবারের দাবা আর হারিয়ে যাওয়া শিশুদের জন্য ঘোষণার ব্যবস্থা থাকছে প্রবেশপথেই। পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলের আলো, রাস্তার নিরাপত্তা ও পার্কিং নিয়েও সমন্বয় সাধিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

কার্তিক পূজার টানে এবার আসবেন বরাক উপত্যকার শিলচর, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি ছাড়াও আগরতলা ও ঢাকা অঞ্চলের ভক্তরা। স্থানীয় বাস মালিক সমিতি জানিয়েছে, উৎসবের দিনগুলোতে বেড়েছে শিলচর-কৈলাশহর রুটের বাহন। হোটেল-ধর্মশালায় তৈরি হচ্ছে বাড়তি বিছানার ব্যবস্থা।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবে এলাকার স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে চলবে ভোজ-প্রসাদ রান্নার বিশেষ তাগাদা। কমিটির এক বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য বলেন, “ছোটবেলায় দেখেছি, কার্তিক পূজা মানেই সারা পাড়ার লোক এক উঠানে বসে থাকা। সেই মুখগুলোই এখন আসবে, নাতি-নাতনি হাতে।”

উৎসবের সামগ্রী কেনায় স্থানীয় বাজারেও বইছে উৎসবের দাপট। মালমালি, ফুলওয়ালা আর মিষ্টির দোকানে শুরু হয়েছে বাড়তি খাতা চালানো। কমিটির ভবিষ্যদ্বাণী, এবারের উৎসবে প্রতিদিন হাজির হবেন কমপক্ষে পনেরো হাজার মানুষ — শেষ দিনে সেই সংখ্যা ছাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।