বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা দিবস উপলক্ষে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে বেরিয়েছে রঙিন শোভাযাত্রা। সভায় বক্তারা বলেন, ভাষাকে বাঁচাতে হলে প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় শিক্ষার বিকল্প নেই।
ভাষা দিবসে ধর্মনগরে শোভাযাত্রা ও সভা, প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় শিক্ষার দাবি
সকাল আটটা থেকেই শহরের মূল চৌরাস্তায় জমা হতে থাকে শোভাযাত্রার দল। হাতে হাতে পুঁথি, খাতা আর বানানো পোস্টার — লেখা একটাই স্লোগান: মাতৃভাষায় শিক্ষা চাই। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, তাঁতি আর কৃষক — সব বয়সের মানুষ মিলে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নদীর ঘাটের মিলনমেলা মাঠে গিয়ে পৌঁছান।
সভাপতিত্ব করেন জেলা সাহিত্য সভার সভাপতি। তাঁর ভাষায়, ভাষা কোনো যাদুঘরের সামগ্রী নয় যে কাচের বাক্সে তুলে রাখা যাবে — ভাষা বাঁচে খেলার মাঠে, রান্নাঘরে, হাটের দরদামে। তিনি জানান, গত এক বছরে জেলার এগারোটি গ্রামে সান্ধ্যকালীন ভাষা-ক্লাস শুরু হয়েছে, যেখানে ভর্তি হয়েছেন তিন শতাধিক তরুণ-তরুণী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা বলেন, আদমশুমারির ভাষার তালিকায় সম্প্রদায়ের নাম যথাযথভাবে লেখা হওয়া জরুরি। তিনি জেলা প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার ঘোষণা দেন, যাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাতৃভাষায় পাঠদানের পাইলট প্রকল্প চালুর দাবি তোলা হয়েছে।
সভার শেষ পর্বে স্কুলপড়ুয়াদের কণ্ঠে গীতি পরিবেশন হয়। মঞ্চে ওঠেন দুই প্রবীণ কবি — দুজনে মিলে পড়ে শোনান নতুন লেখা দুটি কবিতা। আয়োজক সংগঠনের সম্পাদক জানান, আগামী মাসে ভাষা দিবসের বিশেষ সংখ্যা বের হবে, যেখানে ছাপা হবে সভার সম্পূর্ণ প্রতিবেদন আর নতুন কবিতাগুলো।
সন্ধ্যায় মাঠে জ্বলে ওঠে প্রদীপের সারি। উপস্থিত ছিলেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যবস্থাপনায় সভা শেষে বিতরণ করা হয় গরম খিচুড়ি আর পায়েস। পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, শোভাযাত্রা ও সভা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।