করিমগঞ্জের এক গ্রামে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী ডিজিটাল দক্ষতা কর্মশালা। কম্পিউটার ব্যবহার, অনলাইন সেবা আর নিরাপদ ইন্টারনেট চর্চা — তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে পাঠ্যক্রম।
গ্রামের তরুণদের জন্য ডিজিটাল দক্ষতা কর্মশালা, প্রশিক্ষণ পাবেন দুই শতাধিক যুবক-যুবতী
করিমগঞ্জ জেলার এক সীমান্তবর্তী গ্রামে মাসব্যাপী ডিজিটাল দক্ষতা কর্মশালা শুরু হয়েছে। স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় দুই শতাধিক তরুণ-তরুণী নিবন্ধন করেছেন। ক্লাস বসছে গ্রামের সমাজঘরে, যেখানে দাতা সংস্থার সাহায্যে আনা হয়েছে বারোটি ল্যাপটপ আর একটি প্রজেক্টর।
পাঠ্যক্রম তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পাক্ষিকে শেখানো হচ্ছে কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের প্রাথমিক ব্যবহার, ফাইল রাখা আর ই-মেইন লেখা। দ্বিতীয় পাক্ষিকে থাকবে অনলাইন সেবা — সরকারি পোর্টালে ফর্ম পূরণ, ট্রেনের টিকিট, ব্যাঙ্কিং অ্যাপ আর হস্তশিল্পের পণ্য অনলাইনে বাজারজাত করার প্রাথমিক ধারণা। শেষ পাক্ষিকে পড়ানো হবে নিরাপদ ইন্টারনেট চর্চা — কীভাবে ভুয়ো খবর চিনবেন, ব্যক্তিগত তথ্য কাউকে দেবেন না, সেই শিক্ষা।
কর্মশালার প্রধান প্রশিক্ষক স্থানীয় তরুণ প্রকৌশলী দীপক সিংহ। শহরে চাকরি করার পর তিনি ছুটির মাসে গ্রামে এসে ক্লাস নিচ্ছেন। তাঁর সহায়তায় আছেন আরও চারজন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক। দীপক বলেন, “আমার ছেলেবেলায় এই সুযোগ গ্রামে ছিল না। এখন ফেরার পথটা যদি এক প্রজন্মকে দেখিয়ে দেওয়া যায়, কর্মশালার মূল্য তবেই।”
বিশেষ করে মেয়েদের অংশগ্রহণ এবার চোখে পড়ার মতো — নিবন্ধিতদের প্রায় অর্ধেকই তরুণী। কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিদিনের ক্লাসে ব্যবহার করা হচ্ছে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার নির্দেশিকা, যাতে শেখার ভাষা যেন ঘরের ভাষাই হয়। একজন তরুণী অংশগ্রহণকারী বলেন, “শহরে গিয়ে অফিসের কাজ দেখে ভয় লাগত। এখন ল্যাপটপ খুলে বসতে পারি।”
কর্মশালা শেষে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী পাবেন একটি প্রশিক্ষণ-সনদ, আর সেরা দশজন পাবেন স্মার্টফোন চালানোর কাজে অভ্যস্ত হওয়ার ব্যবহারিক পরামর্শ। আয়োজকদের ভাষ্যে, সামনের বছর এই কর্মশালার নমুনা উপত্যকার আরও চার পাঁচটি গ্রামে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।