গুরুপূর্ণিমার অনুষ্ঠান সামনে রেখে শিলচরের মঞ্চে প্রস্তুতি চলছে বারো দলের রাসলীলার। আয়োজকেরা বলছেন, এবারের আসরে উঠছে তিন প্রজন্মের শিল্পী।
শিলচরে মঞ্চস্থ হবে রাসলীলা, অংশ নেবেন শতাধিক শিল্পী
শিলচর শহরের সাহিত্য-সংস্কৃতির মঞ্চে এবার সাজছে রাসলীলার বড় আসর। গুরুপূর্ণিমার অনুষ্ঠান সামনে রেখে মহানগরের বাইরে নদীর ধারের মঞ্চে প্রস্তুতি চলছে দিনরাত। আয়োজক সংস্কৃতি সমিতি জানিয়েছে, এবারের রাসলীলায় অংশ নেবে বারোটি শিল্পীদল — শতাধিক শিল্পীর সমাবেশ।
রাসলীলা এই সমাজের ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক জীবনের এক বিশেষ অধ্যায়। বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাবে গড়ে ওঠা এই নৃত্য-নাটের ঐতিহ্য বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী পাড়ায় পাড়ায় আজও বেঁচে আছে। শিল্পীরা ঢোল-কার্তাল হাতে সাধনা করেন বছরব্যাপী; আর গুরুপূর্ণিমার রাতে সেই সাধনার ফল ধরা পড়ে মঞ্চে।
এবারের আসরের বিশেষত্ব — তিন প্রজন্ম একসঙ্গে। শিলচরের জ্যেষ্ঠ গুরু রমেশ সিংহের নাতনি এই প্রথম মঞ্চে উঠছেন, আবার তাঁর সহযোগী হিসেবে থাকছেন সেই প্রজন্মের বাবন-কাকারাও। মহিলা শিল্পীদলের ভার পড়েছে স্থানীয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ওপর, যাদের মহড়া চলছে প্রতিদিন সন্ধ্যায়।
মঞ্চস্থ হবে রাধা-কৃষ্ণের লীলার সেই সব পর্ব, যেগুলো এ অঞ্চলের দর্শক প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেখে এসেছে। ঢোলিয়াদের সংখ্যা এবার আঠাশ, আর তাঁদের সঙ্গে থাকবেন কার্তাল, মান্ধির আর বাঁশির দল। আয়োজকেরা জানান, আসর শুরু হবে সন্ধ্যা সাতটায় আর চলবে প্রায় তিন ঘণ্টা।
প্রবেশ থাকছে সবার জন্য উন্মুক্ত। সমিতির সদস্য বলেন, “রাসলীলা শুধু অনুষ্ঠান নয়, আমাদের সাধনার ভাষা। বছরের একটা রাতে সেই ভাষা যদি গোটা শহরকে শোনানো যায়, আয়োজন সার্থক।” উৎসব ঘিরে শহরের বিভিন্ন পাড়ায় রাতের আলো সাজানোর কাজও শুরু হয়েছে।