কাছাড়ের এক গ্রামের মাঠে খেলা হল ইন্টার-ভিলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল। শেষ মুহূর্তের গোলে জিতে শিরোপা তুলে নিল যুব একাদশ, আর গ্রামে জমল রাতভর আনন্দ।
অসম ব্রেকিং
গ্রাম ফুটবলের ফাইনালে নাটকীয় জয়, শিরোপা উদযাপন রাতভর
কাছাড়ের এক গ্রামের ধু-ধু মাঠে গতকাল সন্ধ্যায় শেষ হল মাসব্যাপী আন্তঃগ্রাম ফুটবল টুর্নামেন্ট। ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই পাড়ার দল — নদীর এপারের একাদশ আর ওপারের যুব সমাজ। ম্যাচ শেষ হয়েছিল স্কোরলাইনে দুই-এক, আর জয়ের গোলটি এসেছিল ঠিক শেষ মুহূর্তে — চিরচেনা ক্লাইম্যাক্স।
মাঠ ঘিরে তখন দর্শকের ভিড় — গাছে, ট্রাকের ছাদে, বাঁশের মাচায়। আয়োজকদের হিসাবে, ফাইনাল দেখতে হাজির ছিলেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল ওপারের দল; দ্বিতীয়ার্ধে জমে ওঠে এপারের পাল্টা আক্রমণ, আর তৃতীয় মিনিটের ইনজুরি টাইমে এল সেই গোল — যে গোলের জন্য গ্রাম আজও কথা বলবে বছরের পর বছর।
জয়ী দলের অধিনায়ক বলেন, “বছর তিনেক আগে আমরা সেমিফাইনালে হেরে কেঁদেছিলাম। আজ সেই কান্নার জবাব দিয়েছি খেলে।” হেরে যাওয়া দলের অধিনায়কও হার মানেননি স্বেচ্ছায় — ম্যাচ শেষে দুই দল একসঙ্গে মাঠ প্রদক্ষিণ করেছে, দর্শকের হাততালিতে।
সন্ধ্যায় উঠল পুরস্কার বিতরণী। ট্রফি তুলে দেওয়া হয় গ্রামের জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া-সংগঠকের হাতে, যিনি চল্লিশ বছর ধরে এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে যুক্ত। সেরা খেলোয়াড় পেলেন দুই জন, আর সেরা গোলরক্ষক পেলেন একজন তরুণী — এই টুর্নামেন্টে প্রথমবার নারী গোলরক্ষক দাঁড়ালেন ফাইনালের বারে।
রাত জমল উদযাপনে। গ্রামের চত্বরে বাজল ঢোল, সাজল মিষ্টির থালা, আর ভোজের আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী রাঁধুনিরা রাতভর উঠে বসে রইলেন। আয়োজক সমিতি জানিয়েছে, আসন্ন বছর টুর্নামেন্টের বয়স পূরবে ন-টি গ্রামের দল — আর থাকবে বয়সভিত্তিক নতুন বিভাগ।