কাছাড় উপত্যকার বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী তাঁতি পরিবারগুলোর হাতে এখন কাজের অভাব নেই। সমবায় সমিতির হিসাব বলছে, দুই বছরে তাঁতির মাসিক আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
তাঁতের শাড়িতে ফিরছে হারানো গৌরব, বাড়ছে তাঁতি পরিবারের আয়
এক সময় ছিল যখন কাছাড় উপত্যকার তাঁতি পাড়াগুলোতে চরখা ঘুরলেও বাজার ছিল না। সেই ছবি এখন বদলে গিয়েছে। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী তাঁতি পরিবারগুলোর তৈরি শাড়ি-চেলেন এখন সামনের কাতারে আসার অপেক্ষায় থাকে, আর উৎসব-বিয়ের মৌসুমে তোলা পড়ে ঢাকের কাপড়।
এই বদলে ভূমিকা রেখেছে সমবায় সমিতির হাতে আধুনিক তাঁত আনা আর নিয়মিত বাজার খোঁজা। সমিতির হিসাব অনুযায়ী, সদস্য তাঁতির মাসিক আয় দুই বছর আগে যেখানে গড়ে চার-পাঁচ হাজার টাকা ছিল, এখন তা দাঁড়িয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে দুই সুতোর শাড়ি আর ফুল-কাজের চেলেনের চাহিদা বছর বছর বাড়ছে।
শিলচরের কাছাকাছি এক তাঁতি গ্রামে গেলে দেখা যায়, ভোর থেকেই ঘরে ঘরে সুতোর শব্দ। তাঁতি প্রভাতী দেব বলেন, “আমার ছেলেমেয়ে স্কুলে যায়, আর আমি বুনি। এখন বোঝা যায় কাপড়ের দাম পাওয়া যাচ্ছে।” তাঁর তাঁতে এ মাসে উঠছে প্রায় বারোটি শাড়ি — এক দশক আগে ভাবা যেত না এমন সংখ্যা।
সমিতি এবার নতুন করে শুরু করেছে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। প্রতি মাসে দুজন বয়স্ক তাঁতির তত্ত্বাবধানে নতুনদের শেখানো হচ্ছে বুননের কৌশল, আর বাজারের রুচির কথা বলে দেওয়া হচ্ছে আলাদা সেশনে। সমিতির সচিব বলেন, “নকশা বদলাতে হয়, কিন্তু হাতের কাজের মান নামানো যাবে না — এই দুটো কথাই আমাদের প্রশিক্ষণের মূল কথা।”
কাপড় বিক্রির পথও এখন এক নয়। শহরের প্রদর্শনীর পাশাপাশি চালু হয়েছে অনলাইন অর্ডারের ব্যবস্থা। আগামী শীতে কৈলাশহরের সমাজ সম্মেলনে যাবে উপত্যকার তাঁতিদের একটি বড় স্টল — সেখানে বিক্রি হবে শাড়ি, চেলেন আর উত্তরীয়। তাঁতিরা বলছেন, সম্মানের সঙ্গে ব্যবসা চললে এই শিল্প আর হারাবে না।