এবারের মেধা বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে কাছাড় উপত্যকার বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী পাড়াগুলো থেকে এসেছে প্রশংসনীয় সাফল্যের খবর। শিক্ষক-অভিভাবকদের মত, পড়াশোনার পাশাপাশি মাতৃভাষায় চর্চার অভ্যাসও এ সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে।
মেধা বৃত্তি পরীক্ষায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ছাত্রছাত্রীদের অসামান্য সাফল্য
এবারের রাজ্য মেধা বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কাছাড় উপত্যকার বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের ঢেউ। জেলা শিক্ষা দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, উপত্যকার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে চল্লিশজনের বেশি বৃত্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
শিলচরের এক প্রত্যন্ত গ্রামের বিদ্যালয় থেকে দুই ভাই-বোনই এবার তালিকায় উঠেছেন — অষ্টম শ্রেণিতে ঋতু রানী সিংহ আর দশম শ্রেণিতে তাঁর দাদা অরিন্দম সিংহ। দুজনের বাবা-মা তাঁতের কাজ করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “পরিবারের আর্থিক অবস্থা যত সামান্যই হোক, বাড়িতে বই-খাতার নিয়ম রাখা পরিবারগুলোর ছেলেমেয়েরা এগিয়ে থাকে।”
সাফল্যের পেছনে ভূমিকা রেখেছে গ্রামের পাঠাগারও। করিমগঞ্জের একটি সংস্কৃতি-পাঠাগারে গত দুই বছর ধরে চলছে মেধাবীদের বিশেষ ক্লাস। সেখান থেকেই এবার বৃত্তি পেয়েছেন ন-জন ছাত্রছাত্রী। পাঠাগারের স্বেচ্ছাসেবক প্রভাকর দেব বলেন, “সন্ধ্যায় এক ঘণ্টা মাতৃভাষায় গল্প পড়া আর সকালে অঙ্কের অভ্যাস — এই দুটো নিয়ম করে দিলে বেশির ভাগ ছেলেমেয়ের ভয় কেটে যায়।”
অভিভাবকমহলের মত, পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় বাড়িতে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষায় ধারণা বুঝিয়ে দেওয়া গল্পগুলো শিশুদের মনে বিষয়টি গেঁথে যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, মাতৃভাষায় দৃঢ় ভিত থাকলে অন্য ভাষার পাঠ্যবইও সহজে ধরা পড়ে।
সাফল্যের এই ধারা ধরে রাখতে সমাজের বিভিন্ন সংস্থা এবার থেকে বৃত্তিপ্রাপ্তদের নিয়ে বিশেষ সম্মানসভার আয়োজন করবে। সেই সভায় সিটি ও উপত্যকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে, যাতে ভালো ফলের পথটা অন্য পাড়াগুলোও জানতে পারে।