📅

অনলাইন সংস্করণ • ধর্মনগর, ত্রিপুরা

২৫ খবর • ৩২,৯৫৬ পঠন

সাপ্তাহিক সংবাদপত্র

প্রতিষ্ঠা ১৯৮৫ • ধর্মনগর, ত্রিপুরা

কাকাই

বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সংবাদ

← বিশ্ব

বিশ্ব

লন্ডনে প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক উৎসব, মঞ্চে এবার সন্তানেরা

লন্ডনের এক কমিউনিটি হলে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী প্রবাসীদের বার্ষিক উৎসবে এবার মঞ্চে উঠেছে দ্বিতীয় প্রজন্মের শিশু-কিশোরেরা। অভিভাবকদের ভাষ্যে, উৎসবের মূল চাওয়া — সন্তানদের সঙ্গে ঘরের ভাষা আর সুরের সম্পর্ক অটুট রাখা।

লন্ডনের কমিউনিটি হলে প্রবাসীদের উৎসব
ছবি: লন্ডনের কমিউনিটি হলে প্রবাসীদের উৎসব

লন্ডনের এক কমিউনিটি হলে শনিবার সন্ধ্যায় শেষ হল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী প্রবাসী সমাজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক উৎসব। বাইরে তখন লন্ডনের শরতের হাওয়া, ভিতরে হলে কিন্তু জমে উঠেছিল উপত্যকার গন্ধ। পর্দা সরানোর পর থেকে শেষ প্রদীপ নেওয়া পর্যন্ত চলেছে গান, নৃত্য আর হাসি।

এবারের আসরের বিশেষত্ব, মূল মঞ্চে উঠেছে দ্বিতীয় প্রজন্ম — যারা জন্মেছে এই দেশে, বাড়ির ভাষায় কথা বলে, আর স্কুলের বইয়ের পাশাপাশি সপ্তাহান্তে শেখে মায়ের-দাদির গান। তরুণ শিল্পীদের একটি দল পরিবেশন করে নাটসংকীর্তনের সুর, আর ছোট সন্তানেরা নাচের তালে তালে পেশ করে ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের ভঙ্গিমা।

অভিভাবকদের একজন বলেন, “বাড়িতে বলি, তোমার ঠাঁই দুই জায়গায় — একটা এখানকার স্কুলে, আর একটা গোরস্থানের ভাষায়। দুটোই তোমার।” উৎসবের আয়োজক সমিতি জানায়, সারা বছর সপ্তাহান্তে চলে ভাষা-শ্রেণি আর নৃত্য-শ্রেণি, আর এই উৎসব তারই বছরের ফসল দেখানোর দিন।

খাবারের দাবায় সাজানো হয়েছিল উপত্যকার স্বাদ। স্বেচ্ছাসেবী রাঁধুনিদের হাতে রান্না হয় দেশের পিঠা-পুলি আর ঝোল-ভাত; সেই সঙ্গে মিশে যায় ইংল্যান্ডের শীতের চা। অনুষ্ঠান শেষে বিতরণ করা হয় স্মারক-সনদ, আর বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মাননা।

পরের দিনের পরিকল্পনা নিয়ে সমিতি জানায়, আসন্ন বছর উৎসবের বয়স বাড়বে — আসবে দেশ থেকে শিল্পীরা, থাকবে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা। একজন প্রবাসী তরুণের কথায়, “জন্ম হয়তো এখানে, কিন্তু গল্প আমাদের সেখানকার। সেই গল্প বলতে পারাটাই এই উৎসবের আসল জয়।”