📅

অনলাইন সংস্করণ • ধর্মনগর, ত্রিপুরা

২৫ খবর • ৩২,৯৫৯ পঠন

সাপ্তাহিক সংবাদপত্র

প্রতিষ্ঠা ১৯৮৫ • ধর্মনগর, ত্রিপুরা

কাকাই

বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সংবাদ

← বিশ্ব

বিশ্ব

মৌলভীবাজারে দুই দিনের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, অংশ নিলেন দুই দেশের শিল্পী

সিলেট অঞ্চলের মৌলভীবাজারে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সমাজের দুই দিনের সাংস্কৃতিক আসর শেষ হল মঙ্গল সন্ধ্যায়। আসরে গান, নৃত্য আর নাটসংকীর্তন — সব মিলিয়ে উঠে এল দুই দেশের শিল্পীদের যুগলবন্দি।

মৌলভীবাজারে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মঞ্চ
ছবি: মৌলভীবাজারে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মঞ্চ

বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সমাজের আয়োজনে দুই দিনের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সমেত শেষ হল এই সপ্তাহের মধ্য ভাগে। সিলেট অঞ্চলে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা বসবাস করে আসছেন শত বছরেরও বেশি সময় ধরে — চা-বাগান, কাঠের ব্যবসা আর তাঁতের কাজ গেঁথে দিয়েছে তাঁদের সঙ্গে এই মাটির সম্পর্ক।

আসরের প্রথম দিনে পেশ হয় ঐতিহ্যবাহী নাটসংকীর্তন। স্থানীয় শিল্পীদলের সঙ্গে উঠেছিল আসাম-ত্রিপুরা থেকে আসা শিল্পীরা, আর সেই যুগলবন্দি দেখতে ভিড় জমেছিল মাঠভর্তি। দ্বিতীয় দিনে বাচ্চাদের নৃত্য, ছোটদের গান আর বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মৃতিচারণ।

সংগঠকদের ভাষ্যে, এই আসরের উদ্দেশ্য একটাই — দুই দেশের সমাজের বাঁধন আরও দৃঢ় করা। একজন জ্যেষ্ঠ সংগঠক বলেন, “সীমান্ত দুই দেশের, কিন্তু গান এক। ছোটবেলায় দাদির কাছে যে গান শিখেছি, ও-পারের বাড়িতেও সেই গানই গাওয়া হয়।” সন্ধ্যায় পরিবেশিত হয় সমবেত নাটসংকীর্তন, যেখানে সামনে বসে ছিলেন দুই দেশের প্রবীণ শিল্পীরা।

মঞ্চের বাইরে সাজানো হয়েছিল তাঁতের পণ্যের প্রদর্শনী। মৌলভীবাজার অঞ্চলের তাঁতি পরিবারগুলো নিজেদের বোনা চেলেন আর উত্তরীয় এনেছিলেন বিক্রির জন্য। উৎসব উপলক্ষে পাড়ায় পাড়ায় রান্না হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পদ — ভিড় উপচে পড়েছিল খাবারের দাবায়।

সংগঠকেরা জানিয়েছে, পরের আসর দুই বছরের মধ্যে হবে, আর বারান্দা পাল্টে সেবার আয়োজন করবে উপত্যকার শহর। অংশগ্রহণকারী এক তরুণীর কথায়, “বাইরে থেকে দেখে মনে হয় অনুষ্ঠান শুধু মঞ্চে। কিন্তু এই সন্ধ্যাগুলোই আসলে আমাদের ইতিহাসের থাকা-না-থাকার প্রশ্ন।”