📅

অনলাইন সংস্করণ • ধর্মনগর, ত্রিপুরা

২৫ খবর • ৩২,৯৪৪ পঠন

সাপ্তাহিক সংবাদপত্র

প্রতিষ্ঠা ১৯৮৫ • ধর্মনগর, ত্রিপুরা

কাকাই

বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সংবাদ

← বিশ্ব

বিশ্ব

প্রবাসী তরুণদের অনলাইনে মাতৃভাষা শেখা, সপ্তাহে দুই রাতের ক্লাস

আটলান্টিকের ওপর দিয়ে চলছে মাতৃভাষার ক্লাস। শিলচর-আগরতলার শিক্ষকরা ভিডিও কলে পড়াচ্ছেন, আর ছাত্রছাত্রী ছড়িয়ে আছেন ব্রিটেন-আমেরিকা-উপসাগরীয় দেশে।

ল্যাপটপে অনলাইন ক্লাসে বসে এক তরুণী
ছবি: ল্যাপটপে অনলাইন ক্লাসে বসে এক তরুণী

সপ্তাহের দুই রাতে, ভারতীয় সময়ে রাত ন-টা, তখন লন্ডনে সাড়ে-চার, আমেরিকার পূর্ব উপকূলে দুপুর। সেই সময়টাতেই খোলে মাতৃভাষার অনলাইন ক্লাসের ঘর। পড়ান শিলচর ও আগরতলার স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকেরা, আর পড়তে বসেন ব্রিটেন, আমেরিকা ও উপসাগরীয় দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী তরুণ-তরুণীরা।

ক্লাস শুরু হয়েছিল গত বছর মাত্র ন-জন ছাত্র নিয়ে। সমিতির হিসাব বলছে, এখন নিয়মিত উপস্থিতি পঁয়ত্রিশের কাছাকাছি। পাঠ্যক্রম সাজানো তিন স্তরে — প্রথম স্তরে বর্ণ আর সংখ্যা, দ্বিতীয় স্তরে বাক্য গঠন, তৃতীয় স্তরে গল্প-গান আর লেখার অভ্যাস। শেষ স্তরের ছাত্রছাত্রীরা ইতিমধ্যে চিঠি লিখতে পারেন দাদির ভাষায়।

শিক্ষকদের একজন বলেন, “সামনে মুখ দেখি না, কিন্তু উচ্চারণ ভুল হলে বুঝি যায় — সারা পৃথিবীতে ক্লাসের বেহালা এক রকমই বাজে।” ক্লাসে ব্যবহার হয় স্বনির্মিত ওয়ার্কশিট, আর বাড়ির কথা মনে করার জন্য চলে দেশের গান। সময়ের হিসাব রাখা সবচেয়ে কঠিন কাজ — তাই ক্লাসের সময় ঠিক হয়েছে সবার ছুটির দিনে।

অভিভাবকদের মত, ভাষা শেখার চেয়ে বড় হয়ে উঠছে সম্পর্ক শেখা। একজন মা-বাবা জানান, “ছেলে আগে দাদির সঙ্গে ফোনে ইংরেজিতে কথা বলত। এখন বলে নিজের ভাষায় — দাদি কান্না চেপে রাখতে পারেন না।” সমিতি ভাবছে, আসন্ন বছর ক্লাসে যুক্ত হবে লিপির ইতিহাসের ছোট পাঠ।

সামনের লক্ষ্য — দ্বিতীয় প্রজন্মের জন্য প্রথম সংকলন: যে বইতে থাকবে ক্লাসে লেখা গল্প, কবিতা আর চিঠি। স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকের ভাষ্যে, “ভাষা কখনও কোলে বাঁধা থাকে না। যত দূরে যাবে, তত বেশি মনে রাখবে — এটাই আমাদের প্রত্যয়।”