📅

অনলাইন সংস্করণ • ধর্মনগর, ত্রিপুরা

২৫ খবর • ৩২,৯৪৩ পঠন

সাপ্তাহিক সংবাদপত্র

প্রতিষ্ঠা ১৯৮৫ • ধর্মনগর, ত্রিপুরা

কাকাই

বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সংবাদ

← নিবন্ধ

নিবন্ধ

প্রকাশিত হল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী–বাংলা–ইংরেজি ত্রিভাষিক অভিধান

প্রায় পঁচিশ হাজার শব্দ নিয়ে সাত বছরের সাধনার ফসল এই অভিধান। সমাজ সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপত্যকার বিদ্যালয়-পাঠাগারগুলোতে বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়া হবে কপি।

নতুন অভিধানের বই রাখা টেবিল
ছবি: নতুন অভিধানের বই রাখা টেবিল

শিলচরের এক সাহিত্যসভায় গতকাল প্রকাশিত হল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী–বাংলা–ইংরেজি ত্রিভাষিক অভিধান। প্রায় পঁচিশ হাজার শব্দ, প্রবাদ আর ব্যবহারিক বাক্য নিয়ে সাজানো এই বই তৈরি হয়েছে পুরো সাত বছরের কাজের পর।

সংকলনের ভার ছিলেন এই ভাষার তিন জন গবেষকের একটি দলের হাতে। দলের প্রবীণতম সদস্য বলেন, “শব্দ শুধু অর্থ নয়, শব্দ মানে ইতিহাস। আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিটি ঢেকি-ঘাটে বলা শব্দটুকু যেন অভিধানে ঠাঁই পায়।” উপভাষার শব্দের পাশে রাখা হয়েছে উচ্চারণ, আর প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রবাদের নমুনা-বাক্য।

প্রকাশনা-সভায় প্রথম কপিটি তুলে দেওয়া হয় সমাজের জ্যেষ্ঠদের হাতে। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী আর পাড়ার মানুষ — অনেকে নিজের বাবা-দাদার লেখা খাতার কথা মনে করে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি। একজন অতিথি বলেন, “যে জাতি নিজের অভিধান লিখতে পারে, সে জাতির ভবিষ্যৎ লেখক আর পাঠক দুই-ই হয়।”

সামাজিক সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম সংস্করণের এক হাজার কপির মধ্যে অর্ধেক বিতরণ হবে বিনামূল্যে — উপত্যকার বিদ্যালয়, পাঠাগার ও সংস্কৃতি-কেন্দ্রগুলোতে। বাকি কপিগুলো সংলগ্ন বিক্রয়-কেন্দ্রে পাওয়া যাবে, আর আয়ের টাকা জমা হবে অভিধানের দ্বিতীয় সংস্করণের কাজে।

গবেষকদের মত, এই অভিধান শুধু শব্দের বই নয় — এটি এক দলিল, যেখানে মিশে আছে তাঁত, নদী, পারিবারিক আচার আর কৃষির শত শব্দ। আগামী প্রজন্মের লেখক-সাংবাদিকরা যেন নিজের ভাষায় লিখতে দ্বিধা না বোধ করেন, সেই আশায় বরাবরের মতো এবারও মিলেছে সাহিত্য-সমাজের সমর্থন।