📅

অনলাইন সংস্করণ • ধর্মনগর, ত্রিপুরা

২৫ খবর • ৩২,৯৪১ পঠন

সাপ্তাহিক সংবাদপত্র

প্রতিষ্ঠা ১৯৮৫ • ধর্মনগর, ত্রিপুরা

কাকাই

বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সংবাদ

← নিবন্ধ

নিবন্ধ

পুথি-পাড়ার ইতিহাস ডিজিটাল হচ্ছে, সামনে আসছে অনলাইন আর্কাইভ

গ্রামের ঘরে ঘরে পড়ে থাকা পুরনো পুথিগুলো এবার স্ক্যান হয়ে উঠছে অনলাইন আর্কাইভে। স্বেচ্ছাসেবক তরুণদের দল বলছে, প্রথম ধাপে ডিজিটাইজ করা হবে তিন শতাধিক পুথি।

পুরনো পুথি স্ক্যান করছেন এক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক
ছবি: পুরনো পুথি স্ক্যান করছেন এক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক

বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সমাজের বহু ঘরে এখনও অমূল্য পুথি পড়ে আছে — কারো বাড়ির কাঠের সিন্ধুকে, কারো বারান্দার তাকে। সেই পুথিগুলো তুলে আনতে শুরু হয়েছে এক অভিনব উদ্যোগ: গ্রামে ঘরে ঘরে খুঁজে পুথি সংগ্রহ, তারপর স্ক্যান করে অনলাইন আর্কাইভে তোলা।

কাজটি চালাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক তরুণদের একটি দল, সঙ্গে আছে পাঠাগার-সংস্থার সহযোগিতা। জরিপ শেষে তাদের হাতে এখন তালিকায় উঠেছে তিন শতাধিক পুথি — ধর্মীয় পদ, ইতিহাসের খাতা, গানের সংকলন আর পারিবারিক কাহিনি। স্ক্যানিং চলছে এক সমাজঘরে স্থায়ী বসানো যন্ত্রে, দিনে গড়ে পঁয়ত্রিশটি পাতা।

দলের সমন্বয়ক বলেন, “আমাদের ভয় ছিল, পুথি যে বাড়িতে আছে সে বাড়ির তরুণরাই যদি কোনো দিন সেগুলোর কথা জিজ্ঞেস করেন, তখন কি বলব? সেই ভয়ের জবাবই এই আর্কাইভ।” বিষয়ভিত্তিক ভাগে সাজানো হবে সংগ্রহ: প্রথম ভাগে গান ও পদ, দ্বিতীয় ভাগে ইতিহাস আর বংশ-তালিকা, তৃতীয় ভাগে আচার-অনুষ্ঠানের খাতা।

স্ক্যানের পাশাপাশি চলছে লিপিলেখদের সাক্ষাৎকার নেওয়া। যে পুথির জন্মকথা কেউ জানে না, সেগুলোর বয়স মেপে নিচ্ছেন অনুমানে — কাগজের ধরন আর হাতের লেখা দেখে। স্বেচ্ছাসেবকদের মতে, উপত্যকার বাইরে দেশ-বিদেশের গবেষকরাও এই আর্কাইভ ঘাঁটতে পারবেন, যদি মালিক-পরিবার অনুমতি দেয়।

আর্কাইভের প্রথম পর্ব উঠবে আসন্ন সমাজ সম্মেলনের সময়। আয়োজকেরা জানিয়েছে, সেখানে দেখানো হবে একটি বড় স্ক্রিনে পুথির ডিজিটাল পাতা। তরুণ স্বেচ্ছাসেবক একজন বলেন, “দাদুরা যা লিখে রেখেছিলেন, সেটুকু হলেও যেন হারিয়ে না যায় — এই কাজে রাত জাগা তাই সার্থক।”