কাছাড় উপত্যকার এক গ্রাম থেকে শুরু হয়ে নদীর পাড় ধরে চলা পাঁচ কিলোমিটারের দৌড়ে অংশ নিলেন আট থেকে আশি — সব বয়সের মানুষ। আয়োজকের ভাষ্যে, এই দৌড়ের পথই এক সময় ছিল গ্রামের প্রধান পথ।
ঐতিহ্যের পথে ভোরের দৌড়, অংশ নিলেন তিন প্রজন্ম
রবিবার ভোরে, এখনও আলো ফোটেনি ঠিক, কাছাড় উপত্যকার এক গ্রামের মাঠ থেকে ছুটেছিল শতাধিক দৌড়বিদ। গন্তব্য — নদীর পাড় ধরে বাঁকানো পাঁচ কিলোমিটারের পথ, যে পথটা এক সময় ছিল গ্রামের প্রধান পথ। আয়োজক সমিতির ভাষ্যে, সেই পথেই ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবারের দৌড় — নাম দেওয়া হয়েছে “ঐতিহ্যের পথে দৌড়”।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক প্রতিযোগীর বয়স আশি। তাঁর সঙ্গে দৌড়েছেন তাঁরই নাতি-নাতনিরা, এমনকি প্রপৌত্র একজন — সমাজের হিসাবে এক দৌড়ে তিন প্রজন্ম। সবচেয়ে কনিষ্ঠ অংশগ্রহণকারীর বয়স আট; তিনি দৌড় শেষ না করে ফেরেননি মাঝপথে, শেষ লাইন ছুঁয়েছেন সবার হাততালিতে।
পথের ধারে অপেক্ষায় ছিল পাড়ার মানুষ — কারো হাতে লাড্ডু, কারো হাতে জলের বোতল। দৌড় পথের মাঝে বাঁশের তোরণ সাজানো হয়েছিল যুব সমাজের পক্ষ থেকে। আয়োজকেরা জানান, এই পথ ধরেই এক সময় যাতায়াত হত হাটবারে — তাঁতের কাপড় বোঝাই দোলনা নদীঘাটে যেত, আর ছেলেমেয়েরা যেত হাটের স্কুলে।
পুরস্কার বিতরণী হল মাঠেই। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় রঙিন সার্টিফিকেট, আর বয়স্ক অংশগ্রহণকারীদের জন্য রাখা হয়েছিল বিশেষ সম্মাননা। আয়োজক সমিতির সদস্য বলেন, “দৌড়টা শুধু শরীরচর্চার নয় — এই পথ আমাদের ইতিহাস। যে পথে দাদারা দৌড়ে স্কুলে যেতেন, সেই পথে নাতিরা দৌড়াল — দৃশ্যটা দেখার মতো ছিল।”
সমিতি জানিয়েছে, আসন্ন বছর দৌড়ের দূরত্ব বাড়ানো হবে, আর আমন্ত্রণ জানানো হবে উপত্যকার বাইরের ক্লাবগুলোকেও। ভোরের আলো ফোটার আগেই গ্রাম ফিরে পেয়েছিল তার সবচেয়ে সক্রিয় দিনগুলোর একটি।